সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, “আমি রিপনকে চিনি না। আপনার কাছে যদি অভিযোগের কপি থাকে, তাহলে সেটা আমাকে দিন। আমি বিষয়টি জেনে পরবর্তী মন্তব্য করব।” যুবদল নেতা মিরাজের সঙ্গে ফোনালাপে টাকা-পয়সার কোনো কথা তিনি উল্লেখ করেননি বলেও দাবি করেন পরাগ। এক পর্যায়ে নিউজ প্রকাশ করা হলে এই সংবাদদাতাকে ৩টি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে ডিম থেরাপির ভয় দেখান খালেদ হোসেন পরাগ। Reading Time: 3 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনা জেলা জাসাসের আহবায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন ঘটনায় পাবনার বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক এবং এক ধরনের ‘পরাগভীতি’ ছড়িয়ে পড়েছে।

“পাবনায় বিএনপির রাজনীতিতে লালু, ভুলু ও বাচ্চুর প্রয়োজন আছে কি?”
কিছুদিন পূর্বে ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগ ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, “পাবনায় বিএনপির রাজনীতিতে লালু, ভুলু ও বাচ্চুর প্রয়োজন আছে কি?” বিএনপির নেতৃবৃন্দ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শহিদুল ইসলাম লালু একজন জনপ্রিয় কমিশনার এবং পাবনা পৌর বিএনপির সাবেক নেতা। সাবির হাসান বাচ্চু সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ক্লিন ইমেজের নেতা। আর শামিনুর আলম বুলু পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। সবাই বিএনপির ত্যাগী নেতা এবং প্রচণ্ড আওয়ামী বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত। তাদের নেতৃত্বেই গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। এর আগেও শালগাড়িয়া এলাকার একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় পরাগ প্রকাশ্যে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন এবং হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। ভাবখানা এমন যেন পরাগ বিএনপির রাজনীতিতে বা পার্টির মধ্যে ব্রাহ্মণ সেজেছেন। অন্যরা যত ত্যাগ-তিতিক্ষাই থাকুক না কেন, তিনি তাদের মূল্যায়ন তো দূরে থাক, গণনার মধ্যেই ধরেন না। পরাগের কথাই যেন শেষ কথা। পরাগের কথায়ই পাবনায় বিএনপির সবকিছু হতে হবে। পরাগের কথায় না চলার কারণে তিনি ফেসবুকে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পাবনার বড় বড় রাঘববোয়াল বিএনপির নেতারাও বর্তমানে পরাগের ভয়ে তথষ্ট থাকেন।
অথচ পরাগ নিজে পাবনায় চলাফেরা করেন আওয়ামীলীগের দাগি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। পাবনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের বেয়াই এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের মিছিলে গুলি করা প্রধান সন্ত্রাসী আবু সাইদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী খোকন এখন খালেদ হোসেন পরাগের ডান হাত। রাত বিরাতে খোকনের বাইকে চড়ে খালেদ হোসেন পরাগকে চলাফেরা করতে দেখা যায় পাবনা শহরে। আওয়ামীলীগ নেতা ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আশীষ বসাক এখনো খালেদ হোসেন পরাগের ছত্রচ্ছায়ায় প্রতাপের সঙ্গে পাবনায় ঘোরাফেরা করছেন এবং পাবনার প্রশাসনের সাথে ওঠাবসা করছেন।
সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে) একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, পাবনা জেলা জাসাসের আহবায়ক ও ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগ পাবনা সদর হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ‘নেগোশিয়েশন’ বা ভাগবাটোয়ারার টাকা আদায়ের বিষয়ে যুবদল নেতা মিরাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ওই ফোনালাপে আটঘরিয়ার জাসাস নেতা এবং পরাগের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয়দানকারী এফএম আবুজর ওরফে ফয়সালকে টাকা দেওয়ার জন্য তিনি মিরাজের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। পরাগ ফোনালাপে মিরাজকে স্পষ্টভাবে বলেন, ফয়সালের সঙ্গে বসে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে। বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউন।
মিরাজ জানান, পাবনা সদর হাসপাতালে একটি টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল। পাঁচ লাখ টাকার ওই টেন্ডারে খালেদ হোসেন পরাগ প্রথমে ২৫ শতাংশ চাঁদা দাবি করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে ১৫ শতাংশ দেওয়ার শর্তে আপোষ হয়। কিন্তু আপোষকৃত ১৫ শতাংশ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মিরাজকে বারবার চাপ দেওয়া হয়।
পাবনায় চায়ের দোকানে এবং অলিগলিতে এখন জোর গুঞ্জন যে, খালেদ হোসেন পরাগ যেখানে চাঁদা পান না বা যাদের কাছ থেকে চাঁদা পান না, তাদের বিরুদ্ধেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন।
স্থানীয় ঠিকাদার মো. রিপন হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সরকারি দফতরে অন্যায় হস্তক্ষেপ এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করেছেন।
সংগঠনের নাম ব্যবহার করে টেন্ডারে অংশগ্রহণ বা চাঁদাবাজি করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় জাসাস কমিটির আহবায়ক হেলাল খান বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। আপনি তথ্য পাঠান, পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তরা যদি আমার কাছে অভিযোগ করেন, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, “আমি রিপনকে চিনি না। আপনার কাছে যদি অভিযোগের কপি থাকে, তাহলে সেটা আমাকে দিন। আমি বিষয়টি জেনে পরবর্তী মন্তব্য করব।” যুবদল নেতা মিরাজের সঙ্গে ফোনালাপে টাকা-পয়সার কোনো কথা তিনি উল্লেখ করেননি বলেও দাবি করেন পরাগ। এক পর্যায়ে নিউজ প্রকাশ করা হলে এই সংবাদদাতাকে ৩টি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে ডিম থেরাপির ভয় দেখান খালেদ হোসেন পরাগ।
